প্রিয়া সাহার প্রতি সরকার নমনীয় কেন?

প্রিয়া সাহার প্রতি সরকার নমনীয় কেন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগ ও নিপীড়নের মনগড়া তথ্য তুলে ধরে দেশের মানুষের তোপের মুখে পড়েন। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার দায়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। এ বিষয়ে শুরুতে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেও পরবর্তীতে প্রিয়া সাহার প্রতি সরকারকে নমনীয় ভূমিকায় দেখা যায়। প্রিয়া সাহার মন্তব্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্বে এড়াতেই সরকার তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আয়োজিত ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া বিভিন্ন দেশের অন্তত ২৭ জন প্রতিনিধিকে গত ১৯ জুলাই তাঁর ওভাল অফিসে ডেকে পাঠান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রিয়া সাহা। ওই সময় ট্রাম্পকে প্রিয়া সাহা বলেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩ কোটি ৭০ লাখ (৩৭ মিলিয়ন) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান উধাও হয়ে গেছেন।

ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ করে প্রিয়া সাহা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করায় প্রিয়া সাহার বক্তব্যের প্রতিবাদে ও তার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। এমনকি তাকে নিজ দল ট্রাম্পের কাছে অসত্য অভিযোগ দেয়া প্রিয়া সাহাকে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে দেশে ফিরলে তাকে সবধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান ,প্রিয়া সাহার বিষয়টি সরকার উপেক্ষা করবে। কারণ দেশে অনেকে অনেক কিছু বলে, কিন্তু এর জন্য তাদের হয়রানি করা হয় না। তিনি বলেন, প্রিয়া সাহা বাংলাদেশে এলে তাকে গ্রেফতারের পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা সেটা জানতে চেয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আমরা বলেছি তাকে গ্রেফতারের পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমরা তার বিরুদ্ধে মামলাও করতে চাই না। আমরা তাকে নিরাপত্তা দিতেও প্রস্তুত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রিয়া সাহার বিষয়টি আমরা এড়িয়ে যেতে চাই। কারণ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এই বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হোক তা আমরা চাই না।

তিনি আরও বলেন,প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে সহায়তা দেওয়ার জন্য ইতিবাচক বৈষম্য নীতি অনুসরণ করছে বর্তমান সরকার। এ কারণে এখন আগের থেকে অনেক বেশি নারী বা সংখ্যালঘু ব্যক্তি সচিব হচ্ছেন এবং এই পদমর্যাদা তাদের সম্প্রদায়ের জন্য একটি নিরাপত্তা হিসাবেও কাজ করে থাকে। এ অবস্থায় প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তাতে সংখ্যালঘুদের মনে আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে। যদিও প্রিয়া সাহার বক্তব্য মোটেও ঠিক নয়। মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কাসহ অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা ভালো আছেন।

এদিকে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারের সঙ্গে অনির্ধারিত এক বৈঠক করেন। ওই বৈঠক রাষ্ট্রদূত প্রিয়া সাহার ব্যাপারে জানতে চাই পররাষ্ট্র সচিব জানান, প্রিয়া সাহার দেশে ফিরতে কোনো বাঁধা নেই। সরকার তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তথ্য সূত্রঃ
পূর্বপশ্চিমবিডি
২৬ জুলাই ২০১৯, ১৮:৩৭
https://www.ppbd.news/national/116882

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here