আগড়তলা বিমানবন্দরঃ দুটি দেশের একই বিমানবন্দর, সম্ভব কি না?

দুটি দেশের অভিন্ন বিমান বন্দর, এটা সম্ভব কিনা? আসুন আমরা সময়ের কণ্ঠস্বর পত্রিকার রিপোর্ট টা দেখে নেই।
সময়ের কণ্ঠস্বর পত্রিকার রিপোর্টঃ দরকার কিছু জমি। সেই জমি দিয়েই নতুন করে ভারতের আগরতলা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ হবে। কিন্তু বিতর্ক এখানেই। যে জমি দরকার সেটি পড়ছে বাংলাদেশে। সেই জেরে জমি জটিলতা নিয়ে দেখা দিচ্ছে প্রশ্ন। উত্তর পূর্বাঞ্চল ভারতের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ এয়ারপোর্ট নির্মাণে ভারতকে জমি দিলে বাংলাদেশের কি লাভ এই প্রশ্নই উঠছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষপটে ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর ১৯৪২ সালে তৈরি করান আগরতলা বিমানবন্দরটি। তখন ভারতীয় উপমহাদেশ ছিল অভিন্ন। পরে ভারত ভাগ হতেই এই বিমানবন্দরটি পড়ে যায় পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্তে। পরে স্বাধীন দেশ বাংলাদেশ তৈরি হয়। তখন থেকে বাংলাদেশের সীমান্ত রেখার খুব কাছে রয়েছে আগরতলা বিমানবন্দর।
আগরতলা বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের তৈরি করতে বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে থাকা কিছু জমি দরকার ভারত সরকারের। বাংলাদেশ বিমান পরিবহণ মন্ত্রনালয়ের কিছু কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, প্রতিবেশী দেশের চাহিদা মতো জমি পড়ছে আখাউড়া উপজেলায়। সেখানকার প্রায় ১ কিলোমিটার পর্যন্ত জমি দরকার আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য।
তবে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন অসামরিক বিমান পরিবহরণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি জানিয়েছেন, একটি অন্য দেশের বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ হবে। বিষয়টি নিয়ে সরকারকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ভারতের পক্ষে এই ধরনের একটি প্রস্তাব এসেছে। তবে সরকার এই বিষয়ে এখনো কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।

প্রসঙ্গত, তিনদিকে বাংলাদেশ দিয়ে ঘেরা ত্রিপুরা রাজ্য। ২০১৮ সালে নতুন নামকরণ করা হয় মহারাজ বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর বিমানবন্দর। সেই সঙ্গে শুরু হয় এই এয়ারপোর্টকে আন্তর্জাতিক মান দেওয়ার উদ্যোগ। এর পরেই ভারত ও বাংলাদেশের পক্ষে হয় বৈঠক। এই বৈঠকে আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের কাছে জমি চেয়ে প্রস্তাব করা হয়। কোন পদ্ধতিতে এই জমি নেওয়া সম্ভব তা নিয়েই জটিলতা।

২০১৮ সালে ভারতের তত্‍কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ঢাকা সফরে এসে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি চান। কিন্তু বাংলাদেশ আশ্বাস দেয়নি। জটিল এই জমি নেওয়ার পদ্ধতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছু মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবে বাংলাদেশ সরকার।
তবে ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এই বিমানবন্দর ভারত সরকার নির্মাণ করলেও তা বাংলাদেশ সরকারও সমান নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করতে পারবে। এই প্রসঙ্গে উঠে এসেছে দুটি দেশের মধ্যে থাকা অভিন্ন বিমানবন্দরের কথা। এমন রয়েছে ইউরোপ, মার্কিন যু্ক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়। যেমন ১৯২০ সালে নির্মিত সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিমানবন্দর। এটি একইসঙ্গে সুইজারল্যান্ড এবং ফ্রান্স সরকার ব্যবহার করে। আরো জানা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে এমন অভিন্ন কিছু বিমানবন্দর রয়েছে।
মূল কথা হচ্ছে, দুটি দেশের অভিন্ন বিমান বন্দর, এটা সম্ভব কিনা? হ্যাঁ সম্ভব, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিন্ন বিমান বন্দর তার প্রমাণ । তবে আমার কথা হচ্ছে, ভারতের সাথে বাংলাদেশ অভিন্ন আগড়তলা বা অন্য কোন বিমান বন্দর করলে কে লাভবান হবে? এক কথায়, ভারত। সুতরাং ভারতের সাথে বাংলাদেশ অভিন্ন বিমান বন্দর কিংবা ভারতের বিমান বন্দরের জন্য জমি দেওয়া কোন মতেই ঠিক হবে না।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here