বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে সেদিনের ব্যথাতুর ভারত

অমিত গোস্বামী # হৃদয়ে বাংলা ডট কম

১৫ অগস্ট, ১৯৭৫। ভারতের ভেতরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ ঘোরালো। ইন্দিরা গান্ধী তখন হাজারটা সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলেন। দেশে জরুরি অবস্থা চালু করেছেন মাস দেড়েক আগে। সেই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের ওপর সেনসরশিপ। ১৫ অগাস্ট সকালের দিকে রেডিওতে প্রচারিত হল – শেখ মুজিব নিহত, ক্ষমতা দখল করেছে সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট খোন্দকার মুশতাক আহমেদ। বিনা মেঘে বজ্রপাত। কলকাতায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানগুলি স্থগিত করে দেওয়া হল। শোকে নিমজ্জিত হল কলকাতা। স্বজনবিয়োগে ব্যথাতুর কলকাতা অপেক্ষা করল সংবাদপত্রের জন্যে। ১৫ আগস্ট ছিল ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ছুটি। ১৬ আগস্ট কোন পত্রিকাই ছাপা হয় নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা।

১৭ আগস্ট আনন্দবাজার পত্রিকার শিরোনাম হল – বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে ভারত শোকাহত। এই সংবাদে বঙ্গবন্ধুর ও তার পরিবারের সদস্যদের বুলেটে মৃত্যুর কথা লেখার পরে লেখা হল – ভারত সরকার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর খবরাখবর সতর্কভাবে খতিয়ে দেখছেন এবং অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন। বিদেশ দফতরের এক মুখপাত্র বলেন ‘প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক ঘটনার প্রভাব যে আমাদের ওপরও পড়বে না, এমন নয়। তবে তা বাংলাদেশেরই আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং তাঁদের পরিবারের লোকজন নিহত হওয়ার খবরে এখানে গভীর মর্মবেদনা জেগেছে। মুখপাত্র বলেন, ‘শেখ মুজিবর রহমানের শোচনীয় মৃত্যুতে ভারত শোকাহত। আমরা তাঁকে সমকালের এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উচ্চে আসন দিয়েছিলাম। মুখপাত্র আরও বলেন, ভারতের জনগণ এই উপমহাদেশের দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা ও মৈত্রীর মনোভাব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই আদর্শ আমরা বাস্তবে পরিণত করার কাজ চালিয়ে যাব। আরেকটি শিরোনামে লেখা হয় – ‘পূর্ণ মর্যাদায় মুজিব স্বগ্রামে সমাহিত’। এখানে লেখা হয় – সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমানের মৃতদেহ শনিবার স্বগ্রাম ফরিদপুরের টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ‘পূর্ণ মর্যাদায়’ তাকে সমাহিত করা হয়। তখন বিকেল চারটে। সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে বৃহস্পতিবার শেষ রাত্রে। একই সঙ্গে সারাদেশে কারফিউও সামরিক আইন জারি করা হয়। এখনও তা বলবৎ। নতুন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মুশতাক আহমদ শুক্রবার রাতে জাতির উদ্দেশে এক বেতার ভাষণে বলেন, ‘আমাদের সবার সঙ্গে সম্প্রীতি। বিশেষ কারও প্রতি নয়। এই আমাদের বিদেশনীতি। আমরা ইসলামিক সম্মেলন, কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্র জোটবহির্ভূত দেশ এবং বৃহৎ শক্তিবর্গের সঙ্গে মৈত্রী সম্পর্ক বজায় রাখব। নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তিনি পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা’র ১৯ আগস্ট মঙ্গলবারের পত্রিকায় ‘বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শোকাহত’ শিরোনামে প্রকাশিত হয় : নয়াদিল্লি, ১৮ আগস্ট। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আজ শেখ মুজিবর রহমানের উদ্দেশে ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বলেছেন, শেখ মুজিব ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার এবং উপমহাদেশে শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপনের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর বন্ধুত্ব স্মৃতির মণিকোঠায় চিরভাস্বর থাকবে।
আজ এখানে অনুষ্ঠিত শোকসভায় শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। সেখানে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব তাঁর পরিবারের লোকজন এবং তাঁর কিছু সহকর্মী নিহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, শেখ সাহেব সারাবিশ্বের মহান জাতির নেতা বলে স্বীকৃত। তিনি দুর্দমনীয় সাহস ও কঠোর সংকল্প নিয়ে তাঁর জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ভারতের জনগণ তাঁকে এই দেশের বন্ধু এবং উপমহাদেশে শুভেচ্ছা … সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার কাজে অগ্রণী হিসাবে গভীর শ্রদ্ধা করে। আমরা ‘অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। আজ এখানে এর স্মৃতিসভায় বাংলাদেশের স্রষ্টা শেখ মুজিবর রহমানের উদ্দেশ্যে
শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো হয়। এই সভায় কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট এম পিরা এবং সিপিআই’র সাধারণ সম্পাদক রাজেশ্বর রাও বক্তৃতা করেন দুঃসাহসী যোদ্ধা, রাষ্ট্রনায়ক ও মুক্তিদাতা বলে শেখকে অভিহিত করে কমিউনিস্ট নেতা … ইন্দ্রজিত গুপ্ত বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও সিআইএ’র মদত নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, শেখকে হত্যা করা মানবতা ও বিবেকের প্রতি অপরাধ। এই সভায় কংগ্রেস এমপি সৎপাল কাপুর, শ্রীমতী অরুণা আসফ আলি প্রমুখ বক্তৃতা করেন।.
..
কলকাতার আরেকটি জাতীয় পত্রিকা ‘যুগান্তর’-এ ১৯৭৫ সালের ১৭ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু সংবাদটি ‘অভ্যুত্থান : মুজিব ও মনসুর আলী নিহত, সামরিক আইন জারী’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। সংবাদে বলা হয় :
‘ঢাকা, ১৬ আগস্ট। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হয়েছেন। খন্দকার মুশতাক আহমদের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী শাসনভার গ্রহণ করেছে। শ্রী খন্দকার আহমদ কয়েক বছর শেখ মুজিবুরের একজন ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্থায়ী বিপ্লবী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। মেজর ডালিম রেডিও থেকে সমগ্র বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টা কার্ফিউ ঘোষণা করেন। ভোর ৫-১৫ মিনিটে এই অভ্যুত্থান ঘটে বলে জানা যায়। সামরিক অভ্যুত্থানের প্রথম দিকে ভোরে কিছু গুলির আওয়াজ শোনা যায়। তবে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত বলে মনে হয়। ঢাকা বেতার থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নিহত হওয়ার সংবাদ সকাল আটটা পর্যন্ত বারবার প্রচার করা হয়। কিন্তু তারপর থেকে মুজিব সম্পর্কে কোনো সংবাদ প্রচার করা হয় নি। টোকিও বেতার থেকে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু সংবাদ সমর্থিত হয় নি।‘

কলকাতার আরেকটি দৈনিক পত্রিকা দ্য সানডে স্টেটসম্যান এ ১৯৭৫ সালের ১৭ আগস্ট শিরোনাম করে – India Keeping Watch On Events In Bangladesh Grief Over Mujib’s Tragic Death’। তারা লেখে – NEW DELHI, Aug 16| India is “Carefully Studying’’reports of events in Bangladesh and “Watching developments’’ but an official spokesman made it clear today that these are considered as“Internal matters of Bangladesh.” In a statement the spokesman expressed deep grief at “the tragic death of Sheikh Mujibur Rahman who led the national struggle for liberation with steadfastness and courage. We held him in high esteem in India as one of the outstanding personalities of our times.”

সেই সময় সংবাদপত্রের ওপরে সেনসরশিপ চলছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কলকাতার মিডিয়া যেভাবে প্রচার করতে চেয়েছিল তা আসলে করা যায়নি। কারণ তখন সংবাদ লিখে তা ‘পাস’ করিয়ে আনতে হত রাইটার্স রিল্ডিং থেকে। এর মধ্যে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা এক উত্তর সম্পাদকীয়তে মুজিব হত্যার জন্য সরাসরি দায়ী করল সি আই এ – কে। ভয়ানক চটে গেল আমেরিকা। মার্কিন প্রতিনিধি নিজে উপস্থিত হলেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের কাছে। তারা দাবী করল ঐ পত্রিকাকে প্রথম পৃষ্ঠায় ক্ষমাপ্রার্থনা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। এই পত্রিকা গোষ্ঠীর মালিকপক্ষ দীর্ঘদিনের কংগ্রেসি ও সিদ্ধার্থশঙ্করের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কোনোমতে সামলালেন তিনি। তবে কড়া নির্দেশ দিলেন যে বাংলাদেশ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করা যাবে না। এতো গেল কলকাতার প্রতিক্রিয়া। তখন কি ভাবছিল দিল্লি?

এককথায় শিয়ার হরর অ্যান্ড শক। কীভাবে এমন মারাত্মক ঘটনা ঘটে গেল, সেটাই দিল্লি ভেবে কূল করতে পারছিল না। ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সেদিন রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদের দেওয়া রিসেপশনে যোগ দিতে দেশের কয়েকশো নেতা-মন্ত্রী ও সাংসদ তখন রাষ্ট্রপতি ভবনেই। দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়া খবর প্রথম পুড়িয়েছিল ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের। তারা ভাবছিলেন আমাদের গোয়েন্দাদের কাছে কি খবর ছিল না? খবর ছিল। ১৯৮৯ সালে ভারতের কলকাতার আনন্দবাজার গোষ্ঠীর ইংরেজি সাপ্তাহিক সানডের এপ্রিল ২৩-২৯ সংখ্যায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) প্রধান দায়িত্বে ছিলেন রমেশ্বর নাথ কাও এক অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে লেখেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একদল অসন্তুষ্ট সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে, এই তথ্য আমরা আগেই পেয়েছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নিয়ে আমি প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে কথা বলি। তাঁকে এও বলেছিলাম যে খুবই সতর্কতার সঙ্গে আমাদের কাছে খবরটা পৌঁছানো হয়েছে। যিনি এ খবর দিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে তাঁর পরিচয় গোপন রাখতে হবে। ইন্দিরা গান্ধীর অনুমতি নিয়েই ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে আমি ঢাকায় যাই। শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আমার শেষ বৈঠকের একপর্যায়ে তাঁকে বঙ্গভবনের বাগানে একান্তে কিছু সময় দেওয়ার অনুরোধ করি। সেখানেই তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রসঙ্গে আমাদের জানা তথ্য সম্পর্কে তাঁকে জানাই। তিনি হাত নেড়ে বলেন, ‘তারা আমার নিজের সন্তান, তারা আমার ক্ষতি করবে না।‘ বঙ্গবন্ধু কাওয়ের কথায় গুরুত্ব দেননি। ১৯৭৫ সালের মার্চে আর এন কাও-এর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে আবারও বঙ্গবন্ধুর কাছে পাঠিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। কাও লিখেছেন, ‘তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক ও অশ্বারোহী ইউনিট তাঁর প্রাণনাশের চক্রান্ত করছে, এ কথা তাঁকে জানিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শেখ মুজিব সব সতর্কতা অগ্রাহ্য করেছিলেন।‘ ভারতের কাছে বঙ্গবন্ধুর ইমেজটা ছিল একটা স্বাধীন দেশের ফাউন্ডার-লিবারেটরের। কাজেই একটা সার্বভৌম দেশ আর একটা সার্বভৌম দেশের সব কিছু করে দিতে পারে না। করলে সেটাকেই তখন সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো বলা হবে।

তবে সেই সময় ভারত বাংলাদেশের কিছু ব্যাপারে বেশ বিরক্ত ছিল। যেমন বঙ্গবন্ধুর একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বা বাকশাল চালু করার উদ্যোগ। ভারত মনে করেছিল সেটা গণতন্ত্রের রাস্তা থেকে বিচ্যুতি। চুয়াত্তরের অগাস্ট মাসে জুলফিকার আলি ভুট্টো বাংলাদেশ সফরে এলেন। তাকে উষ্ণ সম্বর্ধনা দেওয়া হল। তাতে ভারতের দিক থেকে একটা হতাশা অবশ্যই তৈরি হয়েছিল। এর আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে একটি কথা অসম্ভব প্রচার পেল তা হল ভারতীয় বাহিনী লুটপাট করে বাংলাদেশের সম্পদ সব জাহাজ বোঝাই করে নিজ দেশে পাচার করে নিয়ে গেছে। যে মাওলানা ভাসানী যুদ্ধের সময় ইন্দিরা গান্ধীর কাছে ভারতের প্রশংসা স্তুতি করে ভারতে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করেছিলেন। তারপর দেশ স্বাধীন হবার পর সে ভাসানী ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ করেছিলেন ‘ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের’ বিরুদ্ধে! তার ওপরে ইন্দিরা গান্ধী ভারতের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনাবলী নিয়ে বিব্রত ছিলেন। সেই সময় একটা তত্ত্ব বেশ প্রচারে এসেছিল তা হল – ‘বাঙালির মুসলিম জাতীয়তাবাদ’। ‘বাঙালির মুসলিম জাতীয়তাবাদের’ কারণে মুসলমান ধর্মে বিশ্বাসী বাঙালিরা ভারতকে হিন্দুর রাষ্ট্র ভাবতে শুরু করল। সেসময়েই জন্ম নিল ভারত বিদ্বেষ। অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে সেই সময় ভারত ক্রমেই বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ক্রমেই উদাসীন হয়ে পড়েছিল। সুযোগটা নিয়েছিল স্বাধীনতা বিরোধী কিছু মানুষ।

কিন্তু তারপরে ভারত কূটনৈতিক ভাবে বাংলাদেশের সাথে দূরত্ব বজায় রেখেছে দীর্ঘদিন। বাংলাদেশের কর্তাভজা নেতা, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, মন্ত্রী, সান্ত্রী, ষড়যন্ত্রী আদ্যশ্রাদ্ধ করেছে ভারতের। কিন্তু ভারত তার নীতি অনুযায়ী তার কাজ করে গেছে। শেখ হাসিনাকে ভারতে নিয়ে আসা, ডঃ ওয়াজেদকে স্কলারশিপ দিয়ে দিল্লিতে কাজের সুযোগ করে দেওয়া, শেখ হাসিনাকে ঢাকায় ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা, কাদের সিদ্দিকীকে আশ্রয় দেওয়া – সব কাজই নীরবে করে গেছে। ভারতের চোখে এখনও বাংলাদেশ মানে সেদেশের মানুষ ও বঙ্গবন্ধু। এখানে একটা কথা অবশ্যই উল্লেখ্য তা হল বৈদেশিক ব্যাপারে ভারতে রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভেদাভেদ নেই। সে যেই ক্ষমতায় আসুক। সেজন্যে বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় বর্তমান বিজেপি’র পূর্বসুরী ভারতীয় জনসংঘ ভারতের লোকসভায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যাওয়াকে সমর্থন করেছিল। আবার ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পরে শেখ হাসিনার ভারতে বসবাস নিয়ে পূর্বতন সরকারের সিদ্ধান্ত বজায় রেখেছিল। একই ট্র্যাডিশন আজও চলছে। যে যাই বলুক না কেন ভারতের কাছে বঙ্গবন্ধুর হত্যা এক বিষম ক্ষত হয়ে আছে। আজও তা আমাদের কাছে বড় আপসোসের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here