লাল-সবুজ পতাকার আদলে সজ্জিত সন্দ্বীপের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়

লাল এবং সবুজ রঙের মিশেলে বিশাল জাতীয় পতাকা আঁকা সন্দ্বীপের অনেক গুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়াল । প্রথম দেখায় মনে হবে বিদ্যালয়টি যেন এক বিশাল রঙিন ক্যানভাস।সন্দ্বীপের মুছাপুর ৪ নং ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় নতুন জেগে উঠা চরে সবুজের বিশাল সমাহার অতিক্রম করে বাঁধ থেকে নামতেই চোখে পড়লো লাল সবুজের মিশেলে বিশাল জাতীয় পতাকার আদলে আঁকা একটি নতুন ভবন। নাম ফলকের দিকে তাকাতে দেখি মুছাপুর গুরুদাস প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রথম দেখায় মনে হবে বিদ্যালয়টি যেন একটি বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।

সন্দ্বীপের প্রায় অঞ্চলে এই রকম ভবন এখন প্রতিনিয়ত চোখে পড়ে। সন্দ্বীপ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দীনের ফেইসবুক ওয়ালে ” বিদ্যালয় আমার তীর্থ ক্ষেত্র ” এমন শিরোনামে কিছু সময় ধরে কয়েকটি বিদ্যালয়ের ছবি পোষ্ট হতে দেখা যায়।

খবর নিয়ে জানা যায় শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বিশেষ নিদ্দেশে জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি খুদে শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গুরুদাস প্রাঃ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান এর জন্য সরকারী কোন বরাদ্ধ নেই। ভবনটিকে লাল -সবুজের রঙে জাতীয় পতাকার আদলে সাজাতে খরচ পড়েছে চল্লিশ হাজার টাকা।খরচ হলেও যাতায়াতের সময় বিদ্যালয়টি সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়। চলার পথে অনেকেই থমকে যান। সহজে যেন চোখ ফেরাতে পারেন না। অনেকে আবার আগ্রহ নিয়ে ভবনের সামনে যান, ছবি তোলেন। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

সন্দ্বীপের প্রায় ১৫৩ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪০-৪৫ টি বিদ্যালয় এমন ভাবে সাজানো হলেও কোন কোন বিদ্যালয়ের রঙ দেখে মনে হয় কিসের যেন একটা ঘাটতি রয়েছে। একটু মনযোগ দিলে বুঝা যায় সবুজ রঙের পরিবর্তে টিয়া রঙের ব্যবহার কাঙ্খিত সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিয়েছে। এটা রঙ নির্বাচনে শিক্ষক ও শিল্পীর দুর্বলতার দিকে তীর ছোড়ে।

অনেক বিদ্যালয়ে দেয়ালের এই জাতীয় পতাকার রঙের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের ভেতরের দেয়ালে বর্ণমালা, স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, ফুল, ফল, পাখি, মীনা-রাজুর ছবিসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক চিত্রমালা আঁকা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা খুব খুশি।

গুরুদাস বিদ্যালয়ের সামনে খেলাধুলায় মেতে থাকা শিক্ষার্থীরা জানায় বিদ্যালয়ের দেয়ালের পুর্বের রং ভালো ছিলোনা। এখন লাল-সবুজ রং করার পর খুব সুন্দর লাগছে।

সন্দ্বীপ উপজেলা আজিমপুরের শিক্ষক হুমায়ুন কবির সেলিম বলেন সাধারণত প্রতি অর্থ বছরের শুরুতে বিদ্যালয় মেরামতসহ আনুষঙ্গিক কাজ বাবদ অর্থ বরাদ্দ দেয় সরকার। এ বছর সে টাকার একাংশ দিয়ে প্রায় ১৫০ টি বিদ্যালয় ভবন বিজয় দিবসের পুর্বে নান্দনিকভাবে রাঙাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন বলেন, জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রং বাংলাদেশের প্রতীক। এই রং দেখলেই সবার মনে প্রশান্তি আসে। দেশের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বাড়ে। শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম জন্মাতে সহায়ক হবে লাল-সবুজ রং। এই ভাবনা থেকেই বিদ্যালয়গুলো জাতীয় পতাকার রঙে রাঙানো হচ্ছে।

মোমেনা সেকান্দর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেশব ঘোষাল জানান বিদ্যালয়ের ভবন ভাঙাচোরা, বিবর্ণ থাকলে মনমরা হয়ে থাকে শিক্ষার্থীরা। পড়াশোনা বা খেলাধুলায় মনোযোগী হয় না। বিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো হলে শিশুরা পড়াশোনা-খেলাধুলায় আনন্দ পায়।

অন্য শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ের এই লাল-সবুজ রং শিক্ষার্থীরা ছাড়াও এলাকার মানুষের মনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আমরাও অানন্দিত এমন রঙে স্কুলকে সাজাতে পেরে।

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পুর্বে সবকটি স্কুল এমন রঙে সাজানোর নিদ্দেশনা থাকলেও মাত্র ৪০/৪৫ টি ছাড়া বাকি গুলো কেন হচ্ছেনা বা বিজয় দিবসের পুর্বে আদৌ সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নে নাম গোপন রাখার স্বার্থে এক শিক্ষক জানান যেসব প্রধান শিক্ষকের ৫২ ও ৭১ এর চেতনায় এলার্জি আছে তারা ফান্ড ঘাটতির প্রশ্ন তুলে স্কুলকে সাজানো থেকে বিরত রয়েছেন। তাই বিজয় দিবসের পুর্বে ১০০% কোন ভাবে সম্ভব নয়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here